ভারতের বন নীতি (Forest policy) ও বন আইন (Forest law)

১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম ভারতবর্ষে ফরেস্ট পলিসি ঘোষনা করে। জার্মান এক্সপার্ট Dr. Voelcker ১৮৯৪ সালের ১৯ অক্টোবর কৃষিসম্পদের সঙ্গে অরণ্য জীবনের ভূমিকা নিয়ে সমীক্ষা চালান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পেল, পরিবর্তন এল ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামাের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, বৃদ্ধি পেল গৃহপালিত জীবজন্তু। এই সঙ্গে বৃদ্ধি পেল খাদ্য চাহিদা। জমির ওপর প্রচণ্ডভাবে চাপ এল-কারণ, কৃষিশস্য না জন্মালে মানুষ বা পশু না খেয়ে মারা যাবে। তাই অরণ্য জীবন ধ্বংস করে সেই জমিতে শষ্য উৎপাদন করা শুরু হল। এর ফলে স্বাধীন ভারতের সরকার ১৯৫২ সালে “National Forest Policy”-র জন্ম দিল তাদের ভাবনা-চিন্তার মধ্যে দিয়ে। এই Policy তে আছে – (ক) অরণ্য জীবন রক্ষা করা (খ) জাতীয় অরণ্যরক্ষার পরিকাঠামাে তৈরি করা এবং (গ) গ্রামভিত্তিক অরণ্য জীবনকে নিয়ে সুস্থ চিন্তা-ভাবনা করা ।

স্বাধীন ভারতের forest policy জোর দিয়েছে বিশেষ বিশেষ কয়েকটি কাজের ওপর, যেমন –

  1. আদিম জীবনের পশুপালন নির্ভর জীবিকার পরিবর্তন করে মানুষদের স্থানান্তর কৃষিজীবন থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা।
  2. অরণ্য আইন বা Forest Law তৈরি করে অরণ্য পরিচালনার ক্ষেত্রকে আরও উন্নত করা।
  3. সমস্ত কর্মচারীদের আরও ভালােভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  4. অরণ্য সৃজন এবং অরণ্য উৎপাদনের দিকে বেশি নজর দিয়ে অরণ্য পরিচালনার কাজকে আরও উন্নত ও ত্বরান্বিত করা ।
  5. অরণ্য ভূমিতে পশুচারণ কমিয়ে দেওয়া। এবং
  6.  জনকল্যাণমূলক কাজে অরণ্য জীবনকে ব্যবহার করা।

 

সুতরাং Forest Policy-র বিশেষ উদেশ্য এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলি হল নিম্নরূপ:

  1. Ecological Balance ঠিক রেখে পরিবেশের Stability বজায় রাখা।
  2. Natural heritage কে সুরক্ষিত করা।
  3. মৃত্তিকা ক্ষয় রােধ করার সঙ্গে নদীর Catchment area, হ্রদ ও জল ধারণ অববাহিকার ক্ষয় রােধ করা।
  4. সমুদ্র উপকূল সহ রাজস্থানের মরু অঞ্চলের বালুকার বিস্তার রােধ করা।
  5. অরণ্য জীবন বৃদ্ধি করা, মানুষের অবাঞ্ছিত চাহিদা বন্ধ করা, জাতীয় জীবনের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য Forest
    Productivity বৃদ্ধি করা।
আরও পড়ুন:  Bengali General knowledge Mock test 05 for all Competitive Exam

সুতরাং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বনাঞ্চল রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের, সেই মানসিকতাকে জাগানাের দরকার আছে। বনসৃজনের মাধ্যমে বিশেষ করে সমাজিক বনসৃজনের মধ্য দিয়ে ভারতের ফরেস্ট পলিসি’-কে কার্যে রূপায়ণ করে পরিবেশকে উন্নত করার জন্য আইনের সাহায্য নেবারও প্রয়ােজন আছে এবং ভারতের ‘ফরেস্ট পলিসি’র যাত্রা সেদিকেই তাই – সামাজিক বনসৃজনের মূল্যও যথেষ্ঠ।

সামাজিক বনসৃজন: ‘ফরেস্ট পলিসি’ এবং ‘ফরেস্ট ‘ল’- সামাজিক বনসৃজনকে নিয়েও গঠিত। সামাজিক বনসৃজন অরণ্য পরিচালনা এবং অরণ্য সংরক্ষণের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে। অরণ্য সৃজন বিশেষত ফাঁকা জমিতে করা হয়ে থাকে। এর কারণ হল – (ক)পরিবেশ (খ) । সামাজিক দিক এবং (গ) গ্রাম-পরিবেশকে সুস্থ রাখা। সেই কারণে একথা বলা হয় – “Forestry of the people, by the people and for the people”। এই Forest Policy করার পেছনে আরও কারণ হল – পরম্পরাগত অরণ্য জীবনের ওপর থেকে অত্যধিক চাপ কমানাে। এই চাপ কমানাের জন্য Plantation of fuel wood, folder এবং সেইসঙ্গে Grass বা তৃণ উৎপাদনকে আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সামাজিক বনসৃজনের প্রধান প্রধান উপাদানগুলি হল –

  1. Agro forestry
  2. Community forestry
  3. Commercial farm forestry
  4. Community forestry cum commercial farm forestry এবং
  5. Urban forestry

ভারতবর্য Community forestry-তে China-র পরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। Community forestry-তে উন্নতি লাভ করে। গুজরাট, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, কেরল, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, ওড়িশা এবং হিমাচল প্রদেশ। Commercial farm forestry লক্ষ্য করা যায় হরিয়ানা, পাঞ্জাব, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে।

ভারতের Urban forestry-র উদ্দেশ্য বৃক্ষ রক্ষার পরিচালনা তথা আরও বেশি বৃক্ষ উৎপাদনের মাধ্যমে এই forest policy-কে পূর্ণরূপ দেওয়া। নগরাঞ্চলে এবং নগরাঞ্চলের চারপাশে এই urban forestry র ব্যাপক বিস্তারের কথা ভাবা হয়েছে এবং এই ভাবনাচিন্তাকে বাস্তব রূপও দেওয়া হচ্ছে। নগরের রাস্তার ধারে, আমােদ-প্রমােদের জন্য ব্যবহৃত উদ্যানে, বা অন্যান্য যায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  General knowledge mock test in bengali 03 for all Competitive Exam

ভারতবর্ষের ফরেস্ট পলিসির (Forest policy) মুখ্য উদ্দেশ্য গুলি হল –
(ক) পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা।
(খ) আমােদ-প্রমােদ উদ্যান বাসস্থানকে সুস্থ পরিবেশের মধ্যে আনা। এবং
(গ) মানুষের aethetic value-র আরও উন্নতিকরণের দিকে অগ্রসর হওয়া। প্রয়ােজনে forest law এর মাধ্যমে এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথাও ভাবা হচ্ছে।

পরিশেষে একথা বলা প্রয়ােজন যে, বনরক্ষা বা অরণ্য সংরক্ষণ এবং বনসৃজনের মাধ্যমে আরও অরণ্য জীবন সৃষ্টি আজ একটা জাতীয় পর্যায়ে এসে জাতীয় সমস্যার সমাধান করেছে। এখানে সাধারণ মানুষের এই কাজে অংশগ্রহণ করা, এই প্রচেষ্টাকে আরও উন্নতির পথ দেখাবে। এইসঙ্গে বলা দরকার যেবা – ‘Van Mahotsava’ যা ১৯৫০ সালে Launch করেছে এবং তার বিশেষ কারণ হল – বৃক্ষরক্ষা এবং বৃক্ষ রােপণের চিন্তা মানুষের চেতনার মধ্যে নিয়ে আসা। এর জীবন্ত উদাহরণ হল– চিকো আন্দোলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.